• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩২ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
ভোটের দিনে লিফলেট বিতরণের দায়ে জামায়াত নেতার অর্থদন্ড নীলসাগর ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ বন্ধ বিশ্ব স্ট্রোক দিবস: স্ট্রোকের ঝুঁকি, রিহ্যাবের সংকট ও পুনর্বাসনে সচেতনতার আহ্বান তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার হত্যা মামলায় মাগুরার সাবেক ওসি ও এসআই জেলহাজতে ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে ৯ কর্মকর্তা প্রত্যাহার সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় জলঢাকা পৌরসভার সাবেক মেয়র গ্রেপ্তার রানীরবন্দরে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী ব্যবসায়ী নিহত “ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি

বাবার লাশ বাড়িতে রেখে এসএসসি পরীক্ষা দিল রিফা

সিসি নিউজ ডেস্ক।। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বাবার লাশ বাড়িতে রেখে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে রিফা আকতার। গতকাল বুধবার উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের দক্ষিণ পরুয়াপাড়ায় রিফার বাবা আহমদ নবী (৪৫) মারা যান। আজ বৃহস্পতিবার সকালে আড়াই ঘণ্টার পরীক্ষা শেষে দুপুরে বাসায় ফেরি যায় সে। তবে এর আগেই সকাল ১১টার দিকে তার বাবার দাফন সম্পন্ন হয়।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল বুধবার রাতে রিফার বাবা আহমদ নবী (৪৫) হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে নিজ বাড়িতে মারা যান। নিয়তি মেনে নিয়ে বাবার লাশ বাড়িতে রেখে চোখের জলে রিফাকে পরীক্ষার হলে যেতে হয়। তবে পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগেই সকাল ১১টায় তার বাবার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

রিফা রায়পুর বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পরীক্ষা দিচ্ছে। রিফার চার ভাই-বোনের মধ্যে রিফা সবার বড়। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বটতলী শাহ্ মোহছেন আউলিয়া উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে এসএসসির ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সে।

রিফার খালাতো বোন উর্মি আকতার বলেন, ‘রিফার বাবার মৃত্যুতে সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। তবে একটি পরীক্ষা না দিলে ফল অকৃতকার্য হবে। এ জন্য বাবার লাশ বাড়িতে রেখে তাকে পরীক্ষার হলে নিয়ে আসি। হয়তো পড়ালেখা শেষ করতে পারলে, সে পরিবারের বড় মেয়ে হিসেবে সবার দায়িত্ব নিতে পারবে।

কেন্দ্র সচিব ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘তার (রিফার) বাবার মৃত্যুর বিষয়টি আমরা পরীক্ষা কেন্দ্রে আসার পর জানতে পেরেছি। তবে তার বাবার জানাজা ১১টায় হওয়ায় সে আগে চলে যেতে চেয়েছিল। পরে শিক্ষক ও সহপাঠীরা বুঝিয়ে বললে ১২টা ৩০ মিনিটে পরীক্ষা শেষ করে সে চলে যায়। আমরা চেয়েছিলাম, সে সবার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই পরীক্ষা দিক। এ সময় আমরা তাকে শোকাহত হতে দেখেছি।’

স্থানীয় রায়পুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিন শরীফ বলেন, ‘বাবার লাশ বাড়িতে রেখে কষ্ট চেপে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে রিফা আকতার। আমি তার প্রতি সমবেদনা জানাই। আল্লাহ তাকে ধৈর্য ধারণের ক্ষমতা দিক। রিফা অনেক বড় হোক এই কামনা করি।’

উৎস: আজকের পত্রিকা


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ